
গ্রেপ্তারের পর ভয়াবহ স্বীকারোক্তি দিলেন শিক্ষিকা
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ৩ মাঘ
রাজধানীর কেরানীগঞ্জে মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার পর প্রায় ২১ দিন ধরে একই ফ্ল্যাটে লাশ লুকিয়ে রেখে বসবাস করার এক শিউরে ওঠা ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমনই লোমহর্ষক ও ভয়ংকর তথ্য দিয়েছেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক শিক্ষিকা।
যেভাবে ঘটনা প্রকাশ পায়
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি ফোনকল আসে। ফোনের তথ্য অনুযায়ী কেরানীগঞ্জ উপজেলার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে পুলিশ স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)-এর মরদেহ উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া ফ্ল্যাটটি নুসরাত মীম (২৪) নামের এক শিক্ষিকার বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ
এ ঘটনায় পুলিশ নুসরাত মীম, তার স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮) এবং মীমের দুই বোনকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নুসরাত মীম ও তার ১৫ বছর বয়সী নাবালিকা বোনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম এক ব্রিফিংয়ে জানান, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
হত্যার পেছনের কারণ
পুলিশের তথ্যমতে, নুসরাত মীম একটি এনজিও থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন তার শিক্ষার্থী জোবাইদা ফাতেমার মা রোকেয়া রহমান। সময়মতো কিস্তি পরিশোধ না করায় এ নিয়ে নুসরাত ও রোকেয়ার মধ্যে একাধিকবার বিরোধ তৈরি হয়।
এই বিরোধই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের দিকে গড়ায় বলে পুলিশ ধারণা করছে।
যেভাবে মা ও মেয়েকে হত্যা করা হয়
পুলিশ জানায়, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় যায় জোবাইদা ফাতেমা। এ সময় নুসরাতের ছোট বোনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুসরাতের নাবালিকা বোন গলা চেপে জোবাইদাকে হত্যা করে।
ঘটনাটি আড়াল করতে ফাতেমার পোশাক পরে বাসা থেকে বের হয় নুসরাতের বোন, যাতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় মনে হয় ফাতেমা নিজেই বাসা ছেড়ে চলে গেছে।
ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর নুসরাত ফোন করে রোকেয়াকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। মেয়েকে দেখতে বাসায় এলে পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে রোকেয়ার গলা চেপে ধরেন নুসরাত। পরে দুই বোন মিলে শ্বাসরোধ করে রোকেয়াকে হত্যা করেন।
লাশ লুকিয়ে রাখার ভয়াবহ তথ্য
হত্যার পর অভিযুক্তরা রোকেয়ার মরদেহ শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে এবং জোবাইদার মরদেহ বাথরুমের ফলস সিলিংয়ের ভেতরে লুকিয়ে রাখে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—
এই দুইটি লাশ ফ্ল্যাটে রেখেই প্রায় ২১ দিন ধরে তারা স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছিলেন, রান্না-খাওয়া ও দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
আইনি ব্যবস্থা
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুসরাত মীম ও তার নাবালিকা বোন হত্যার দায় স্বীকার করেছে। নুসরাতকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাবালিকা হওয়ায় তার ছোট বোনকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।