বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মালয়েশিয়ার আপত্তি

ঘন কুয়াশায় পথ হারিয়ে যমুনা নদীর চরে আটকা পড়ে ৪৭ বরযাত্রী, ১৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক রিপোর্ট | প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:৩০

ঘন কুয়াশার কারণে দিকভ্রান্ত হয়ে যমুনা নদীর মাঝচরে দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা আটকে ছিলেন বর-কনেসহ ৪৭ জন বরযাত্রী। অবশেষে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার যমুনা নদীতে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করে যাত্রীদের মাদারগঞ্জের জামথল ঘাটে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়। এর আগে শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার দিকে নৌকাটি নদীর মাঝখানে আটকে পড়ে।

কীভাবে আটকে পড়েন বরযাত্রীরা

স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে নিলয় হাসান (২০)-এর সঙ্গে বগুড়া শহরের সাবগ্রাম এলাকার এক তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর-কনেসহ মোট ৪৭ জন যাত্রী নিয়ে একটি বড় নৌকা বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কালীতলা ঘাট থেকে মাদারগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়।

নৌকাটি যমুনা নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ ঘন কুয়াশায় চারদিক ঢেকে যায়। দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় নৌকার মাঝি দিক নির্ণয় করতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নৌকাটি নদীর মাঝচরে নোঙর করে রাখা হয়।

রাতভর উৎকণ্ঠা, ৯৯৯-এ ফোন

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা আরও ঘন হলে নৌকায় থাকা নারী ও শিশুসহ যাত্রীরা আতঙ্কে পড়েন। প্রচণ্ড শীত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রাত কাটাতে বাধ্য হন তারা। রাত প্রায় ১১টার দিকে যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চান।

খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তবে কুয়াশার তীব্রতার কারণে রাতে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।

সকালে উদ্ধার

শনিবার সকালে কুয়াশা কিছুটা কমলে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী নৌকা ও স্থানীয় মাঝিদের সহায়তায় নদীতে তল্লাশি শুরু হয়। সকাল ৯টার দিকে আটকে পড়া নৌকার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বর-কনেসহ সব যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করে জামথল ঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়।

বর নিলয়ের বক্তব্য

উদ্ধার হওয়া বর নিলয় হাসান বলেন,
ঘন কুয়াশার কারণে নৌকার মাঝি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। নারী-শিশুসহ সবাই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। সারারাত নদীর মাঝখানে শীত ও আতঙ্কের মধ্যে কাটিয়েছি। আল্লাহর রহমতে সবাই সুস্থভাবে ফিরতে পেরেছি।”
ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও দীর্ঘ সময় নদীতে আটকে থাকার কারণে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।