
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক | প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাতারা রুমী (৩০)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোড এলাকায় অবস্থিত জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে হোস্টেলের অন্য শিক্ষার্থীরা রুমীর কক্ষের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ দেখতে পেয়ে হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে কর্তৃপক্ষ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানালে হাজারীবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের ভেতর জান্নাতারা রুমীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়।
পরিচয় ও রাজনৈতিক ভূমিকা
নিহত জান্নাতারা রুমী নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার নাজিরপুর থানাধীন মো. জাকির হোসেনের মেয়ে। তার মায়ের নাম নুরজাহান বেগম।
রাজনৈতিকভাবে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন সক্রিয় নেত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি এনসিপির ধানমন্ডি থানা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি বছরের ৬ নভেম্বর ধানমন্ডি থানা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
পুলিশি প্রাথমিক তদন্ত
হাজারীবাগ থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহদাত হোসেন জানান,
হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জান্নাতারা রুমীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড—তদন্তে গুরুত্ব
পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। কক্ষের ভেতরের আলামত, মোবাইল ফোনের কললিস্ট, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়সহ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একজন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় তরুণ নেত্রীর এমন আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, কোনো ধরনের গাফিলতি ছাড়াই ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ জানায়, প্রয়োজন হলে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে।