রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মালয়েশিয়ার আপত্তি শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশের অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ আটক ৪ বড়লেখা সীমান্তে ১ হাজার ৭৭০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন আটক মৌলভীবাজার চলন্ত টমটম থেকে লাফ, কলেজছাত্রীর ২ দাঁত ভাঙল

চাচাতো বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, পুলিশের সামনে মেয়ের বাবাকে হত্যা!

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই মামলার বাদী কিশোরীর বাবা কলিম উল্লাহ (৫৩) নামে এক ব্যক্তিকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ভাই ছয়ফুল্লাহর বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের লাফনাউট দিঘীরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কলিম উল্লাহ ওই গ্রামের মৃত তুতি মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত ছয়ফুল্লাহ ও নিহত কলিম উল্লাহ আপন দুই ভাই। আর ধর্ষণ মামলার আসামি জুবেল আহমদ (২১) নিহতের ভাতিজা।

ধর্ষণ মামলার আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে শনিবার গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন তার মা। মামলায় কিশোরীর চাচাতো ভাই জুবেল আহমদকে আসামি করা হয়।

মামলা হওয়ার পর জুবেলকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করে। পুলিশ দিঘীরপাড় এলাকায় গিয়ে জানতে পারে, জুবেল স্থানীয় একটি হাওরে অবস্থান করছেন। এরপর তাকে আটক করতে পুলিশের একটি দল হাওরের দিকে রওনা হয়।

পুলিশের সামনেই হামলার অভিযোগ

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ জুবেলকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে হাওরের দিকে যাওয়ার সময় তার বাবা ছয়ফুল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে কলিম উল্লাহর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ছয়ফুল্লাহ হাতে থাকা দা দিয়ে কলিম উল্লাহর গলায় কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, পুলিশ সদস্যরা কলিম উল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে হাওরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ছয়ফুল্লাহ পুলিশের পাশ কাটিয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে কলিম উল্লাহকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।

তবে পুলিশের উপস্থিতিতে ঠিক কীভাবে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

পারিবারিক বিরোধের বিষয়ও সামনে আসছে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরীর সঙ্গে জুবেল আহমদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বিয়ের বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের।

তবে জুবেলের পরিবার এতে রাজি ছিল না বলে জানা গেছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

এরপর শনিবার কিশোরীর মা থানায় গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর জুবেলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়।

হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিহত কলিম উল্লাহ ও অভিযুক্ত ছয়ফুল্লাহ আপন দুই ভাই। কলিম উল্লাহকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ছয়ফুল্লাহকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, একদিকে ধর্ষণ মামলার আসামি জুবেল আহমদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে কলিম উল্লাহ হত্যার ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে হামলার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক