
প্রতিবেদন: সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬
রাতে সিলেট শহরের সস্তা হোটেলে আশ্রয় নিত, আর ভোর হলেই একটি সাদা প্রাইভেটকার নিয়ে বেরিয়ে পড়ত শহরের পথে। দিনের আলোয় ব্যস্ত সড়ক কিংবা নির্জন এলাকায় ঘুরে সুযোগ পেলেই চালাত চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এমনকি ডাকাতির মতো অপরাধ।
দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সক্রিয় ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অবশেষে পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েছে তাদের তিন সদস্য।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ ভোর প্রায় ৬টা ৪০ মিনিটে Kamalganj Upazila-এর দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা পারভেজ নিশি কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বটতলা বাজার এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন।
এ সময় একটি সাদা প্রাইভেটকার এসে তাকে Sreemangal যাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করে। তিনি রাজি না হলে গাড়িটি আশপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে।

ছবি সংগৃহীত
কিছুক্ষণ পর নিশি বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলে গাড়িটি তাকে অনুসরণ করে। বাড়ির রাস্তার কাছে পৌঁছালে গাড়ি থেকে একজন নেমে তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। প্রায় ১০ থেকে ১২ হাত টেনে নেওয়া হলেও সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ করে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি নিজেকে মুক্ত করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী Kamalganj Thana-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ বিশেষ তদন্ত শুরু করে।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) Nobel Chakma এবং শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার Wahiduzzaman Raju-এর নির্দেশনায় কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ ১০ মার্চ Sylhet মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জাকির মিয়া (২৬), কাওছার আহমদ (৩৪) এবং জসিম মিয়া (৩৬)।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোবহানীঘাট এলাকার আত্মা কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত সাদা প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা একাধিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
সিডিএমএস যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে চুরি ও মাদক আইনে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের দলের আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর বর্তমানে পলাতক রয়েছে, যার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ তিনটি মামলা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, রমজান মাসের ভোরে ফাঁকা রাস্তায় একা পেয়ে ওই নারীকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছিল তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পলাতক সদস্যকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই চক্রের পেছনে আরও বড় একটি অপরাধী নেটওয়ার্ক থাকতে পারে।