
তদন্তে নতুন অগ্রগতি, জড়িতদের ধরতে অভিযান জোরদার
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক রিপোর্ট | প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ |
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করেছে র্যাব এবং এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে র্যাবের একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে পল্টন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।
মোটরসাইকেল ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিচয়
র্যাব জানায়, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৫৪-৬৩৭৫। গ্রেফতারকৃত আব্দুল হান্নানের পিতার নাম মো. আবুল কাশেম। তার স্থায়ী ঠিকানা রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোটরসাইকেলটি কীভাবে হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে এবং ঘটনার সময় এটি কার দখলে ছিল—সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় র্যাব।
হত্যাচেষ্টায় সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আব্দুল হান্নান সরাসরি হামলা বা হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলটি কারা ব্যবহার করেছিল, এর পেছনে কোনো পরিকল্পিত চক্র রয়েছে কি না এবং অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র আছে কি না—সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতারের প্রস্তুতি চলছে।
যেভাবে ঘটে হামলার ঘটনা
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় শরিফ ওসমান হাদির ওপর দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। হামলার পরপরই তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
দেশজুড়ে প্রতিবাদ অব্যাহত
হাদির ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঝালকাঠিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ইনকিলাব মঞ্চ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বক্তারা বলছেন, একজন সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবর্ষণ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তারা ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।