বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮ মুন্নির মৃত্যুর রহস্যে নতুন তথ্য, যা আছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সিলেটে কিশোর ও যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাসের রহমান দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মালয়েশিয়ার আপত্তি

মাকে মারধরের অভিযোগে মাদকাসক্ত ছেলেকে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখে এলাকাবাসী

ঢাকা প্রতিনিধি, সিলেটি চ্যানেল

 

ঢাকা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পারিবারিক সহিংসতার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মাকে মারধরের অভিযোগে মাদকাসক্ত এক যুবককে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রেখে শাস্তি দিয়েছেন স্থানীয়রা। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম খলিল (৩০)। তিনি টেপিরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও নুর উদ্দিনের ছেলে।

ঘটনার পটভূমি

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, খলিল কয়েক বছর আগে ওই এলাকায় একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন। তবে আর্থিক লোকসান ও ব্যক্তিগত নানা সমস্যার কারণে দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়। সংসারে অভাব-অনটনের মধ্যে একপর্যায়ে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এসব ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে ওঠেন।

মাদকের টাকা জোগাড় করতে প্রায়ই তিনি পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার দিন কী ঘটেছিল

শনিবার সকালে খলিল তার মা খোদেজা বেগমের কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ইট ছুড়ে মারেন। ওই ইট খোদেজা বেগমের শরীরে লাগলে তিনি আহত হন।

ঘটনাটি আশপাশের লোকজন দেখতে পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন। মাকে মারধরের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা খলিলকে প্রথমে বাড়ির পাশের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে তাকে মায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এলাকাবাসীর একাংশ ছাতিরবাজার–টেপিরবাড়ী সড়কের পাশে একটি গর্ত খুঁড়ে খলিলকে কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখেন। কিছু সময় পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মাকে মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। আবার কেউ কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
মা-বাবার ওপর হাত তোলা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। তবে আইন আছে, পুলিশ আছে—এভাবে শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি।”

পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত দিক

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মাকে মারধরের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে উভয় দিকই খতিয়ে দেখা হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মাকে মারধর করা দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে শারীরিক শাস্তি দেওয়া বা মাটিতে পুঁতে রাখাও ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। এসব ঘটনায় রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ।

সামাজিক প্রেক্ষাপট

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকাসক্তি, পারিবারিক ভাঙন ও দারিদ্র্য একসঙ্গে কাজ করলে এমন সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারা মনে করছেন, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়

মাদক নিরাময়, সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক সহায়তা বাড়ানো না গেলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।