
লক্ষ্মীপুর |প্রতিনিধি ,
লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন অফিসে গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় অফিস ভবনের নিচতলায় সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আংশিকভাবে পুড়ে যায়। তবে সময়মতো আগুন শনাক্ত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে নির্বাচন অফিস।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত গভীর রাতে নির্বাচন অফিস ভবনের নিচতলার একটি জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ভবনের ভেতর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দায়িত্বে থাকা দারোয়ান বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন সজাগ হয়ে ওঠে। দারোয়ানের চিৎকার শুনে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই নির্বাচন অফিসের কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অফিসের কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এতে করে পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
আগুনে অফিস ভবনের নিচতলার গুদামে সংরক্ষিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথি পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন অফিস কর্তৃপক্ষ। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় নথির বড় অংশ অক্ষত রয়েছে।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুর রশিদ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুর রশিদ জানান, “অগ্নিকাণ্ডে কিছু নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল হক জানান, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার পর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে এমন নাশকতামূলক ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।