
হাদির ওপর হামলাকারী শনাক্তের দাবি
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ |
৫০টি ছবি ও ফুটেজ বিশ্লেষণে নতুন তথ্য, হাদির ওপর হামলাকারী ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় হামলাকারীকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। একাধিক ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করার দাবি করেছে অনুসন্ধানী ও সাংবাদিক সূত্র।
গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম শেষে ফেরার সময় শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানেই তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
হামলার আগেই কাছাকাছি অবস্থানের দাবি
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যাকে গুলিবর্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনি ঘটনার কয়েক দিন আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন। ৯ ডিসেম্বর সেখানে আয়োজিত একটি বৈঠকে তিনি শরীফ ওসমান হাদির একেবারে পাশে বসে আলোচনা শুনছিলেন বলেও দাবি উঠেছে।
৫০টির বেশি ছবি ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই
ডিজিটাল অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, তারা তিনটি আলাদা ঘটনার ছবি ও ভিডিও তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
৯ ডিসেম্বর ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ
১২ ডিসেম্বর হামলার সময় পুলিশের সংগৃহীত সিসিটিভি ভিডিও
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি
এই বিশ্লেষণে যে ব্যক্তির চেহারা সামনে এসেছে, তার সঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদ, যিনি দাউদ খান নামেও পরিচিত—এমন এক ব্যক্তির মুখাবয়বের মিল পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।
বিশেষ ঘড়ির মিল
বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, হামলার সময় মোটরসাইকেলের পেছন থেকে গুলি করা ব্যক্তির বাম হাতে থাকা একটি বিশেষ ডিজাইনের ঘড়ির সঙ্গে ফয়সাল করিম মাসুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে থাকা ঘড়ির মিল রয়েছে।
অতীতের মামলার তথ্য
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি অফিসে ঢুকে অস্ত্রের মুখে অর্থ লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি হিসেবে র্যাব গ্রেপ্তার করেছিল। ওই ঘটনায় সে সময় তার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তবে পরবর্তীতে কী প্রক্রিয়ায় তিনি মুক্তি পান—সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকের দাবি
এদিকে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, ফয়সাল করিম মাসুদ (ছদ্মনাম দাউদ বিন ফয়সাল) ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পোস্টে ৯ ডিসেম্বর ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে তোলা একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত ব্যক্তিকে শরীফ ওসমান হাদির পাশেই বসে থাকতে দেখা যায়।
তদন্ত চলছে
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার বা অভিযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেনি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ, ছবি ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।