মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

র-এর কিলিং গ্রুপের সঙ্গে বিডিআর বিদ্রোহের পরিকল্পনা, ছিলেন সোহেল তাজও!

রিপোর্টার এম রহিম, সিলেটি চ্যানেল প্রতিনিধি

সিলেট: র-এর কিলিং গ্রুপের সঙ্গে বিডিআর বিদ্রোহের পরিকল্পনা, ছিলেন সোহেল তাজও

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৮ পিএম

—

সোহেল তাজ (ছবি সংগৃহীত)

তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ এবং শেখ সেলিমের উপস্থিতিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ২৪ জনের একটি কিলার গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরে পুরো পরিকল্পনা সাজানো হয় এবং সমন্বয় করার জন্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের বাসায় বৈঠক করা হয়। ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের দায়িত্ব ছিল হত্যাকারীদেরসহ বিডিআর সৈনিকদের নিরাপদে পালানোর সুযোগ নিশ্চিত করা।

এসব তথ্য উঠে এসেছে বিডিআর বিদ্রোহের তদন্ত প্রতিবেদনে। গতকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, লেদার লিটন এবং তোরাব আলী। সেখানে যখন জানানো হয় যে অফিসারদের হত্যা করা হবে, তখন তোরাব আলী আপত্তি করেন। তিনি বলেন, “অফিসারদের হত্যা করা যাবে না।” তখন শেখ সেলিম তাকে মুরুব্বি সম্বোধন করে বলেন, “আপনার তো বয়স হয়েছে। আপনার আর এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। আপনার ছেলে আমাদের সঙ্গে থাকলেই হবে।”

৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) কর্নেল শামস বিষয়গুলো জানতেন এবং তিনিও শেখ সেলিম ও তাপসের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে সৈনিকদের সহায়তা করেছিলেন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিজিবি (পূর্বের নাম বিডিআর) সদর দফতরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এই ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে। তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস এ ঘটনার মূল সমন্বয়কারী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার “গ্রিন সিগন্যাল” ছিল। কমিশন ১১ মাস ধরে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর, সন্ধ্যায় সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিআরআইসিএম নতুন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এছাড়া বিডিআর সদস্যদের মধ্যেও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ক্ষোভ ছিল।”

পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। সব মিলিয়ে ওই দিন পিলখানায় নিহত হন ৭৪ জন। একই সময়ে পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও নৃশংসতার শিকার হন।