বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮

হবিগঞ্জের দায়িত্বে মুক্তাদির, মৌলভীবাজারে আরিফ, সিলেট-সুনামগঞ্জে গউছ,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সমন্বয় করবেন।

সিলেট বিভাগের চার জেলার দায়িত্ব

সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জ, আরিফুল হক চৌধুরীকে মৌলভীবাজার এবং মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে মৌলভীবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, চোরাচালান দমন এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তদারকিতে দায়িত্ব পালন করবেন আরিফুল হক চৌধুরী

অন্যদিকে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পালন করবেন। মো. জি কে গউছ সিলেট ও সুনামগঞ্জ—দুই জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

কী কী বিষয় তদারকি করবেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পুরোনো অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও তাঁরা তদারকি করবেন।

প্রয়োজনে জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার সুযোগও থাকবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের।

জেলা পর্যায়ে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব

সরকারের পক্ষ থেকে জেলায় জেলায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অতীতে বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন বরাদ্দ ও সরকারি কর্মকাণ্ডে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান ও সামাজিক অবক্ষয় রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের তদারকি ও সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজারে বাড়ল প্রত্যাশা

মৌলভীবাজারের দায়িত্ব আরিফুল হক চৌধুরীকে দেওয়ার পর জেলার আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও কার্যকর সমন্বয় হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা কীভাবে মাঠপর্যায়ে এই দায়িত্ব বাস্তবায়ন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে কী ধরনের সমন্বয় করবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক