
শাহআরপিন টিলায় টাস্কফোর্সের অভিযানে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীকে চার মাসের কারাদণ্ড
প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক শাহআরপিন টিলায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে টাস্কফোর্সের ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে টিলার বিভিন্ন স্থানে অসাধু ব্যক্তিরা পাথর উত্তোলন করে পরিবেশ ও প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড
অভিযানে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে কালাম হোসেন (৩৯) নামের এক ব্যক্তিকে现场 থেকেই আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরবর্তীতে তদন্ত ও জবানবন্দি শেষে তাকে চার মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত কালাম হোসেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার
১নং পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের ছনবাড়ী গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে।
অবৈধ সরঞ্জাম ধ্বংস
অভিযানের সময় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের জন্য স্থাপিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ পাইপলাইন
২টি ট্রলি
৫টি শক্তিশালী মেশিন
পানি টেনে ওঠানোর অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ

এসব সরঞ্জাম ধ্বংসের ফলে এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযানের নেতৃত্ব
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ তালুকদারের নেতৃত্বে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এই ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে সহায়তা করেন—
কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)
আনসার বাহিনীর সদস্যরা
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার সাংবাদিকদের জানান—
> “শাহআরপিন টিলায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। পরিবেশের ক্ষতি ও সরকারি সম্পদ ধ্বংস রোধে আমরা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করেছি। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। কেউ আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টিলার পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে এই অভিযান দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। টিলার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং ন্যূনতম পরিবেশগত ক্ষতি ঠেকাতে এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।
সিলেটের অন্যতম প্রাকৃতিক নিদর্শন শাহআরপিন টিলা রক্ষায় প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন।