
প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০২৬
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত আলোচিত হত্যাচেষ্টার মামলার বাদী ও তার স্বজনদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে সদর উপজেলার ৯ নম্বর আমতৈল ইউনিয়নের পংধরাই লম্বা বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় আদালত প্রাঙ্গণে সুজন খানের ওপর সংঘটিত আলোচিত হত্যাচেষ্টার মামলার বাদী জসিম উদ্দিন খানের মাথা ও পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এছাড়া তার ভাই আব্দুল আউয়াল খানের হাতেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়। অপর ভাই হেলাল খানও হামলায় আহত হন।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জসিম উদ্দিন খান ও আব্দুল আউয়াল খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। হেলাল খান জেলা হাসপাতালেই প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
জানা গেছে, গত ৯ জুন মৌলভীবাজার আদালত প্রাঙ্গণে সুজন খানের ওপর সংঘটিত আলোচিত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় অভিযুক্ত জমসেদ খানকে গত ৪ আগস্ট ভোরে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জমসেদ খান তার ভাতিজা শাকের ও তারেককে সঙ্গে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে সুজন খানের ওপর প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালান। আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে সংঘটিত ওই ঘটনা জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমসেদ খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে শাকের, তারেক ও জুনেলসহ তাদের সহযোগীরা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে এ হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত হামলার অভিযোগ ভুক্তভোগী পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।