
প্রকাশিত: ০৬ জুলাই ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার পর ‘নিখোঁজ’ নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হলো না অভিযুক্ত স্বামীর।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০–২২ দিন পর সোমবার (৬ জুলাই) সকালে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আলমগীরকে আটক করা হয়েছে।
হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০–২২ দিন আগে গৃহবধূকে হত্যা করে বাড়ির পাশে মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখেন তার স্বামী আলমগীর। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এলাকায় স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান। দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জামাতা আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
একপর্যায়ে নিজের সন্দেহ দূর করতে আলমগীর নিজেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান। তবে তার কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে রাজনগর থানা পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আলমগীর স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে রাজনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। প্রায় ২০ দিন পর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী আলমগীরকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অভিযুক্ত আলমগীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।