
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চার বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি শারমিন একাডেমির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ছবি সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পবিত্র কুমার বড়ুয়া শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের স্বামী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, পল্টন থানার পুলিশের একটি দল স্কুলটির প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ জানায়, স্কুলটিতে ভর্তি হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় গত ১৮ জানুয়ারি শিক্ষকেদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয় চার বছর বয়সী শিশুটি। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত আনুমানিক ৩–৪ বছর বয়সী এক শিশুকে জোরপূর্বক টেনে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে গোলাপি শাড়ি পরিহিত এক নারী শিক্ষক শিশুটিকে টেবিলের সামনে বসিয়ে বারবার চড় মারেন ও ভয়ভীতি দেখান।
একই সময় এক পুরুষ শিক্ষক শিশুটির মুখের সামনে স্ট্যাপলার ধরে ভয় দেখান।
পুলিশের প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে। ভিডিওতে শিশুটির মধ্যে চরম ভয় ও মানসিক আতঙ্কের লক্ষণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই শিক্ষক আত্মগোপনে চলে যান। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার স্কুলটির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাস্তির নামে এ ধরনের সহিংস আচরণ শিশুদের শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
তারা একে শিশুদের নিরাপত্তা ও জীবনের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।