
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০২৬-০১-০৩
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও হুমকিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে।
পরে মাহদী হাসানকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় নেওয়া হলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন আখতার। তবে কোন নির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে— সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ কোনো তথ্য জানায়নি।
মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তারের খবরে রাতেই হবিগঞ্জ সদর থানার সামনে জড়ো হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং থানা ঘেরাও করেন। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কোনো মামলা বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সাদা পোশাকের পুলিশ মাহদী হাসানকে তার বাসা থেকে তুলে এনেছে। তারা অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতেই থানা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি দল মোতায়েন করা হয়। ফলে থানা ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
জানা যায়, এর আগে শুক্রবার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এক ঘটনায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হাসান নয়নকে ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের অংশ হিসেবে আটক করে পুলিশ।
নয়ন জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী দাবি করে তাকে ছাড়িয়ে আনতে থানায় যান মাহদী হাসানসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা।
এ সময় থানার ওসির সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে বসে মাহদী হাসানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী পুলিশের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলছেন।
ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল। অথচ আপনারা আমাদের লোকদের ধরে নিয়ে আসছেন।”
তার বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে আগে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে মাহদী হাসান দাবি করেন, এনামুল হাসান নয়ন একসময় ছাত্রলীগ করলেও জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে সক্রিয় ছিলেন। তার প্রমাণ দেওয়ার পরও পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওসির সঙ্গে বাক্য বিনিময়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পুলিশের অসহযোগিতার কারণেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে মাহদী হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নোটিশে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে সংগঠনের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় দেওয়া মাহদী হাসানের কিছু বক্তব্য সংগঠনের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এজন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে এবং কেন তার বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— সে বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বানিয়াচং থানায় সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত হন। পরে উত্তেজিত জনতার হাতে এসআই সন্তোষ নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
বর্তমানে মাহদী হাসান গ্রেপ্তার ও তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়টি ঘিরে হবিগঞ্জে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।