
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি | প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:৫৯
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক তরুণকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার নয়ানগর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত তরুণের নাম জান্নাত হোসেন (২৭)। তিনি নয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে একই গ্রামের শাহিন রাঢ়ির দুই ছেলে—তারেক (৩২) ও রিয়াদ (২৭)—এর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। তারা দুজনেই মাদকাসক্ত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঝগড়ার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জান্নাত হোসেন সেখানে গিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেন।
ঝগড়া মেটাতে গিয়ে প্রাণ গেল
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝগড়া মিটে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত দুই ভাই জান্নাত হোসেনকে তাদের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে বিচার বা মীমাংসার কথা বলেই তাকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু ঘরের ভেতরে প্রবেশের পরপরই তারা দা দিয়ে জান্নাতের ওপর হামলা চালায়।
হামলার সময় জান্নাতের মা জাহানারা বেগম ছেলেকে অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তার সামনেই জান্নাত হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু
স্থানীয়রা জান্নাতকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গজারিয়ার হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মারিয়া মোস্তারি জানান,
সকাল ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে আমরা তাকে মৃত ঘোষণা করি। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।”
মায়ের হৃদয়বিদারক বর্ণনা
নিহতের মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন,
আমার ছেলে ঘরে ঘুমাচ্ছিল। ওকে ডেকে নিয়ে যায় ওদের ঝগড়া মেটানোর কথা বলে। আমি পেছনে পেছনে যাই। ঘরে ঢোকার আগেই দেখি ওরা দা দিয়ে আমার ছেলেকে কোপাচ্ছে। আমার ছেলে শুধু আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমি এই শোক কীভাবে সইব?”
পূর্ববিরোধের অভিযোগ
নিহতের বড় ভাই রাজু জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। তিনি অভিযোগ করেন,
ওরা জোর করে আমাদের জায়গা দখল করে ঘর তুলে রেখেছে। আমার ভাইকে কোপানোর সময় কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেয়নি।”
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুই ভাইয়ের মারামারির মধ্যে গিয়ে দা-এর কোপে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এলাকায় উত্তেজনা
এই হত্যাকাণ্ডের পর নয়ানগর গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।