সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে যুবকের ক’ব্জি কা’টার ঘটনায় ৫ জন আটক

রিপোর্ট গাইবান্ধ জেলা প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম

 

ডেস্ক রিপোর্ট | সিলেটি চ্যানেল
প্রকাশিত : ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট : ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

গাইবান্ধার সদর উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে এক যুবকের হাতের কব্জি কেটে ফেলার ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের মধ্যে তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আহত যুবকের নাম রুবেল মিয়া (২৫)। তিনি সদর উপজেলার পৌর এলাকার মহুরি পাড়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী মোকাব্বর মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, আটককৃত তিন আসামি হলেন নজরুল ইসলাম বাবু, রাকিব মিয়া ও সুলতান মিয়া। এছাড়া আটক অপর দুইজন নারী থাকলেও তাদের নাম মামলার এজাহারভুক্ত না থাকায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধা সদর উপজেলার শাপলা মিল এলাকায়। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে রুবেল মিয়ার ডান হাতের কব্জি কেটে দেওয়া হয়। হঠাৎ এমন নৃশংস হামলায় প্রত্যক্ষদর্শীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আহত রুবেলের বন্ধু মোমারফ জানান, “আমাদের সঙ্গে বাবুর জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ হামলা হয়েছে। আমি নিজেও হামলায় আহত হয়েছি। যারা প্রকাশ্যে এমন বর্বরতা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। অভিযানের পরপরই অভিযুক্তদের কয়েকজনকে আটক করা হয়। পুলিশি তৎপরতার কারণে ঘটনায় জড়িত অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সরাসরি হামলায় জড়িত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।