সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

হবিগঞ্জের ৩ গ্রাম, শত শত পরিবার পানিবন্দি,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

প্রকাশিত,  ১৩ জুন ২০২৬: সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক 

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এবং এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাত থেকে শুরু হওয়া টানা পাহাড়ি ঢলের কারণে ভান্ডারুয়া, জামালপুর ও এক্তিয়ারপুর গ্রামের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি পানির নিচে চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে পানি বাড়তে থাকায় রাতারাতি পুরো এলাকায় প্লাবনের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী ও খালগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে এবং গ্রামের ভেতরের সড়কগুলো ডুবে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এবং অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

ঢলের পানিতে কয়েকশ একর আউশ ধান, মৌসুমি শাক-সবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন। এতে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং ভবিষ্যৎ জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ ছাড়া কয়েকটি কাঁচা ও মাটির তৈরি বসতঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু ঘর পানির চাপে ভেঙে পড়েছে বলে জানা গেছে। ফলে অনেক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করে পানি প্রবেশ করায় তারা ফসল ও ঘরবাড়ি রক্ষা করতে পারেননি। পানি নামার আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ হোসেন চৌধুরী শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ত্রাণ বা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, জরুরি ত্রাণ সহায়তা, আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, পানি না কমলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এদিকে পুরো এলাকায় এখনো পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক