
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
সিলেটের গোয়াইনঘাটে নাতনিকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় দাদি দিলারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি হারুন রশিদকে গ্রেপ্তার করেছে । হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

র্যাব জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টার দিকে সিলেটের উপজেলার সারীঘাট দক্ষিণ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হারুন রশিদ (৩৮) সিলেটের উপজেলার নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তাজ উদ্দিনের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত দিলারা বেগমও একই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর ছেলে ও অভিযুক্ত হারুন রশিদ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ –এ একসঙ্গে কর্মরত ছিলেন।
সেখানে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। দেশে ফেরার পরও বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ও ঝামেলা চলছিল বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত হারুন রশিদ প্রায়ই ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও বিরোধে জড়াতেন।
র্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শনিবার রাত প্রায় ৩টার দিকে হারুন রশিদ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দিলারা বেগমের বাড়িতে যান।
এ সময় তারা দিলারা বেগমের নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দাদি দিলারা বেগম এতে বাধা দিলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
স্থানীয়দের মতে, হামলার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সময় দিলারা বেগমের নাতনির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। তবে স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ বাদী হয়ে –এর গোয়াইনঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান,
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন অপরাধের দ্রুত বিচার অত্যন্ত জরুরি।
ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে।