
সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারতে এসে এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে (র্যাব)। ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ছবি সংগৃহীত
মঙ্গলবার (১২ মে) -৯ এর পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি শিশু ফাহিমা হত্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনার মধ্যেই নতুন এ অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা এবং পেশাগতভাবে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিলেটে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতে সিলেটের শাহপরান এলাকায় এক ব্যক্তি প্রথমে ওই নারীর সঙ্গে পরিচিত হন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কথোপকথনে জড়ান। পরে তাকে লোহারপাড়া এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
র্যাবের দাবি, ওই বাসায় আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছিল। সেখানে আরও কয়েকজন সিএনজি চালক যোগ দেয় এবং তারা মিলে ওই নারীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী নারী পাশের ভাড়াটিয়াদের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে দ্রুত অভিযান চালায় র্যাব-৯।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ধারালো অস্ত্র (ছুরি) জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
তবে তদন্তের স্বার্থে আটককৃতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
র্যাব-৯ এর সিপিএস কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুইজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বক্তব্যের মিল পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন পলাতক সিএনজি চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
র্যাব জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা দায়ের করা হবে এবং আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের অতীত অপরাধের রেকর্ডও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে নারী ও শিশু নির্যাতনের একাধিক ঘটনা সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন মহল বলছে, ধর্মীয় স্থান ও জনসমাগম এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
📌 র্যাব জানিয়েছে, পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।