
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি সিলেটি চ্যানেল,
হবিগঞ্জে বিভিন্ন জনদুর্ভোগ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকার সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে মিছিল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আয়োজকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া মিছিল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাহদী হাসানকে আটকের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মির্জা সুমন ও রাকিবকেও আটক করা হয়। তবে মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটকের সময় কোর্ট মসজিদ এলাকায় আন্দোলনের অন্য কোনো নেতা-কর্মী বা মিছিলকারীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাহদী হাসান এর আগে একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছিলেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এক তরুণকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি সেখানে উপস্থিত হন। ওই সময় দেওয়া বক্তব্যে বানিয়াচং থানায় অগ্নিসংযোগ এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার বিষয়ে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
তার ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। পরদিন ৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মধ্যে ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে তিনি জামিন পান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশের সদস্যদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ ওঠে। পরে উদ্ধার অভিযানের সময় উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পরদিন থানার সামনে একটি গাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই ঘটনার প্রসঙ্গেই মাহদী হাসানের জানুয়ারির বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
বর্তমানে সোমবারের আটকের ঘটনায় পুলিশ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক