শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তারেক রহমান দেশ চালাতে পারবেন না, উনি পরীক্ষায় ফেল করেছেন, তারেক রহমান কি জুলাইযোদ্ধাদের মেরে ফেলতে চান?’— প্রশ্ন এনসিপির ডা. মাহমুদা মিতুর হবিগঞ্জ শহরে ঢুকতে না পেরে রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র এলাকার রাস্তায় অবস্থান এনসিপির হামলার শিকার নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস, আহত একাধিক সাংবাদিক সিলেটে একই দিনে পৃথক দুই সহিংসতায় স্কুলছাত্র ও যুবক নিহত, আহত কয়েকজন শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘গোপনে ফোনালাপ’, পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের আমন্ত্রণ হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন, শিকলবন্দী দুই মেয়ে, অসহায় মায়ের আর্তি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম, চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী

মিসরের গোল বাতিল নিয়ে তুমুল বিতর্ক: ‘ভুল সিদ্ধান্ত’

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার ৩–২ গোলের জয়ের পর এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ম্যাচের ফল নয়, বরং মিসরের একটি বাতিল হওয়া গোল।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর হস্তক্ষেপে মিসরের একটি গোল বাতিল করা হলে সেটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

বিশেষ করে ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকোর করা গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেফারিং বিশেষজ্ঞ, সাবেক ফিফা রেফারি, ধারাভাষ্যকার ও ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন এটি স্পষ্ট ভুল সিদ্ধান্ত, আবার কেউ দাবি করছেন, আইএফএবির (ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড) আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক রেফারি ও রেফারিং বিশ্লেষক গ্রাহাম স্কট দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া মন্তব্যে বলেন, মিসরের গোল বাতিল করা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, গোল হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে আত্তিয়ার যে শারীরিক সংঘর্ষ হয়েছিল, সেটি ফুটবলের স্বাভাবিক শারীরিক লড়াইয়ের অংশ ছিল এবং সেটিকে ফাউল ধরা উচিত হয়নি।

স্কটের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি গোলপোস্ট থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ঘটেছিল। ফলে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিজেদের পুনর্গঠন করার যথেষ্ট সময় পেয়েছিল। তাই ভিএআরের মাধ্যমে এত দূরের একটি ঘটনাকে সামনে এনে গোল বাতিল করা অযৌক্তিক।

তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে সামান্য শরীরী সংঘর্ষ, পায়ের ওপর পা লাগা বা জার্সি টানাটানি ফুটবলে স্বাভাবিক বিষয়। এগুলো এমন গুরুতর অপরাধ নয়, যার কারণে ভিএআরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। তাঁর মতে, ভিএআর এখানে নিজেদের সীমা অতিক্রম করেছে।

একই ধরনের মত দিয়েছেন সাবেক ফিফা রেফারি এবং ২০১৬ ইউরো ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ। ফক্স স্পোর্টসকে তিনি বলেন, এটি মোটেও ফাউল ছিল না এবং মাঠের রেফারি যেহেতু খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, তাই ভিএআরের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন ছিল না।

ক্ল্যাটেনবার্গের অভিযোগ, চলতি বিশ্বকাপে একই ধরনের আরও অনেক শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনায় ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি। অথচ এই ম্যাচে অতিরিক্ত চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে গোল বাতিল করা হয়েছে। তাঁর মতে, এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভিএআর যেন গোল বাতিল করার জন্য অতিরিক্তভাবে খুঁত খুঁজেছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষেই গেছে এবং বিশ্বের অনেক ফুটবলপ্রেমী এটিকে অন্যায্য ভিএআর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখবেন।

অন্যদিকে, ম্যাচ চলাকালে অনেক ধারাভাষ্যকারও মন্তব্য করেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভিএআরের এখতিয়ারের বাইরে ছিল। তবে আইএফএবির বর্তমান আইন অনুযায়ী বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

আইএফএবির নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো গোল হওয়ার আগে আক্রমণকারী দল যদি ফাউল, হ্যান্ডবল, অফসাইড বা অন্য কোনো নিয়মভঙ্গের মাধ্যমে বলের দখল নেয় এবং সেই আক্রমণ থেকেই গোল হয়, তাহলে ভিএআর সেই ঘটনাটি পর্যালোচনা করতে পারে। নিয়মে ফাউল ও গোলের মধ্যে নির্দিষ্ট সময় বা দূরত্বের কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

ফক্স স্পোর্টসের রেফারিং বিশেষজ্ঞ ডক্টর জো মাচনিক মনে করেন, ভিএআরের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ যদি বলের নিয়ন্ত্রণ ফিরে না পায় এবং একই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় গোল আসে, তাহলে আগের ফাউল বিবেচনায় নিয়ে গোল বাতিল করা বৈধ।

তিনি বলেন, ভিএআর চালুর শুরু থেকেই এই নীতিমালা কার্যকর রয়েছে। অনেকেই মনে করেন ফাউলটি অনেক দূরে ঘটেছিল, কিন্তু আইএফএবির নিয়মে দূরত্ব বা সময় নয়, বরং আক্রমণের ধারাবাহিকতাই গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় ও সমর্থক ভিএআরের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও, অন্য একটি অংশ মনে করছে ফুটবলের প্রচলিত আইন অনুসারেই গোলটি বাতিল করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের এই একটি সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ভিএআর বিতর্কগুলোর একটি হিসেবে ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে।