শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সিলেটে তরুণীকে হত্যা: প্রাক্তন স্বামী ও তার বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড তালামীযে ইসলামিয়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন, জুড়ীতে পানিতে ডুবে মামাতো-ফুফাতো দুই ভাইয়ের মৃত্যু কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ,

তরুণীকে দলবদ্ধ ধ’র্ষ’ণ: তিন আসামির যা’ব’জ্জী’বন কা’রা’দ’ণ্ড

Reporter Name

 

অর্থদণ্ডও প্রদান, একজন এখনো পলাতক

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধ’র্ষ’ণের আলোচিত মামলায় তিন আসামিকে যা’ব’জ্জী’বন কা’রা’দ’ণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে মতিউর রহমান মতিন, একই গ্রামের খোয়াজ আলীর ছেলে দিলদার হোসেন এবং কামারগাঁও গ্রামের হাবিবুর ইসলামের ছেলে বিল্লাল হোসেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় তিন আসামিকে যা’ব’জ্জী’বন কা’রা’দ’ণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া একই আইনের ৭ ধারায় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেনকে আরও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ আগস্ট সকালে এক তরুণী নানাবাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন। পরে তাকে উপজেলার সিংচাপইড় গ্রামের একটি বাড়িতে আটকে রেখে পালাক্রমে ধ’র্ষ’ণ করা হয়।

পরবর্তীতে বিল্লাল হোসেনসহ আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে পুনরায় নি’র্যা’ত’ন চালানো হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর ভাই বাদী হয়ে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় প্রদান করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মো. শামসুর রহমান জানান, রায় ঘোষণার সময় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি বিল্লাল হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। একই সঙ্গে সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে গেছে।”

এদিকে আদালতের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা দ্রুত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।