মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন

সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১ মে ২০২৬

শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্র

সিলেট নগরীকে আগাম বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শনিবার (২ মে) প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরের সময় করা হবে বলে জানা গেছে।

এই বৃহৎ প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছড়াগুলোর মুখে স্লুইস গেট (জলকপাট) নির্মাণ, নদীর পাড় উঁচু করা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভৌগোলিকভাবে সিলেট একটি বিশেষ অঞ্চল—একদিকে নদী, অন্যদিকে টিলা। নগরীর ভেতরে থাকা প্রায় ১৩টি প্রাকৃতিক ছড়া বর্ষাকালে সুরমা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির পানি শহরে প্রবেশ করায়।

ফলে প্রতিবছরই জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। দেশের খ্যাতনামা পানি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সিসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭,৫০০ কোটি টাকা। প্রথম ধাপে সরকার প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তবে প্রকল্পটি এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নগরীর কাজীরবাজার, গোয়ালীছড়া এবং হলদিছড়া এলাকায় তিনটি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে। এসব স্থানে পাম্প বসানো হবে, যাতে নদীর পানি শহরে ঢুকতে না পারে এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা যায়।

এছাড়া তামাবিল বাইপাস সড়কের শাহপরান ব্রিজ থেকে বাধাঘাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকায় সুরমা নদীর দুই তীর উঁচু করা হবে। যেখানে পাড় উঁচু করা সম্ভব নয়, সেখানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল নির্মাণ করা হবে।

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর বলেন, “বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্যই এ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে এটি গ্রহণ করেছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি বিদেশি সহায়তার মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে সুরমা নদী খননের বিষয়টি এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও, সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন দীর্ঘমেয়াদে নদী খনন একটি বড় পরিকল্পনার অংশ হওয়া প্রয়োজন।

তবে এটি একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হওয়ায় আপাতত বিকল্প সমাধান হিসেবে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগরীর বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ উন্মোচিত হবে।