
বড়লেখা প্রতিনিধি :: সিলেট চ্যানেল ডেস্ক প্রকাশ,৩ ডিসেম্বর ২০২৫
হাওরখাল জলমহালে মাছ লুটপাটের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক মহল ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেছেন বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন।
গতকাল বড়লেখার নিজ বাসভবনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সকলের বিচারের দাবি জানান।
চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন বলেন, “এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন সবার অপেক্ষা করা উচিত—দোষীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা পর্যন্ত। তবে মামলার সঠিক তদন্ত শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢালাওভাবে রাজনৈতিক দলের নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হলে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“ন্যায়বিচারের স্বার্থে যে কোনো ধরনের অপপ্রচার, গুজব কিংবা মিথ্যাচার থেকে সবাইকে বিরত থাকা উচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোনো প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার জায়গা নয়। এতে শুধু তদন্ত প্রক্রিয়াই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বিভ্রান্তিও ছড়ায়।
ঘটনার দিনের বিবরণ তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন
উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সেদিন যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে মাছ বিক্রি করা হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপস্থিত প্রতিনিধিরা নিলাম শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থান ত্যাগ করেন।
কিন্তু পরে বিকেল বেলায় নিলামে তোলা মাছ জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। ঘটনার পরদিন বড়লেখা থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি এই ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দল জড়িত থাকে, তাহলে তাদের প্রভাব বা অবস্থান যাই হোক না কেন—অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অপরাধীর পরিচয় অপরাধকে আড়াল করতে পারে না।
ভিত্তিহীন অপপ্রচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন
একটি পক্ষ তাদের হীন উদ্দেশ্য পূরণ এবং রাজনৈতিকভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য ছড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস করার আগে প্রকৃত ঘটনার সত্যতা যাচাই করবেন—এটাই আমার অনুরোধ।”
চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন সকলের প্রতি আহ্বান জানান—হাওরখাল জলমহালে মাছ লুটের ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের আগে ভিত্তিহীন মন্তব্য না করে শান্ত থাকা এবং আইনের প্রতি আস্থা রাখার।