মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮

সাদাপাথর লুটপাট: বিএনপি নেতা এমদাদসহ কয়েকজনের স্থাবর সম্পদের খোঁজে দুদক,

রিপোর্ট, ইব্রাহিম আহমেদ রুবেল সিলেটি চ্যানেল প্রতিনিধি

 

ডেস্ক রিপোর্ট | সিলেটি চ্যানেল
প্রকাশিত: ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকায় সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্থাবর সম্পদের তথ্য সংগ্রহে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ তালিকায় রয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পদ স্থগিত হওয়া সভাপতি মো. সাহাব উদ্দিন এবং তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাজী আবদুল ওদুদ আলফু মিয়া।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম। জানা গেছে, গত ২৫ নভেম্বর সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর পাঠানো চিঠিতে ওই তিন ব্যক্তির নগরীর আওতাধীন এলাকায় থাকা স্থাবর সম্পদের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অসাধু যোগসাজশে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় তাদের নামে কোনো স্থাবর সম্পদ থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার জানান, দুদকের এ ধরনের কোনো চিঠি পাওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।

দুদকের চিঠি ইস্যুর প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সাদাপাথর লুটের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি এ বিষয়ে কোনো চিঠির বিষয়েও অবগত নন। বিষয়টিকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ বলে দাবি করেন।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, সাদাপাথর এলাকায় লুটপাটের ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করতে বিস্তৃত অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্তদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। শুধু তিনজন নয়, আরও বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর দুদক জানায়, ভোলাগঞ্জে সাদাপাথর লুটপাটে রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। দুদকের উপপরিচালক মো. রাশেদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল এ বিষয়ে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট দুদকের একটি পাঁচ সদস্যের দল সাদাপাথর এলাকায় এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সংগৃহীত তথ্য প্রতিবেদন আকারে ঢাকায় পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪২ জন রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালীর সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নাম রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবির নিষ্ক্রিয়তা ও সহযোগিতার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা ছয়টি আলাদা ক্যাটাগরিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো গত ১৫ আগস্ট কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করে। ওই মামলায় ১৩ সেপ্টেম্বর র‌্যাব-৯ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পদ স্থগিত হওয়া সভাপতি মো. সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এছাড়া ৪ অক্টোবর তেলিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওদুদ আলফু মিয়াকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সাদাপাথর এলাকায় নজিরবিহীন পাথর লুটপাট হয়। অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরে পর্যটন এলাকা সাদাপাথর থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে।

 

 

ছবি সংগৃহীত