
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় একটি আবাসিক বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ছয়জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোরের দিকে আগারগাঁওয়ের পাকা মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে আগারগাঁওয়ের পাকা মার্কেট এলাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশের ২০৪/এফ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাস থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘরের ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা আগুনে দগ্ধ হন।
ঘটনার পরপরই আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং দগ্ধদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়।
দগ্ধদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন হলেন—
মো. জলিল মিয়া (৫০)
আনেজা বেগম (৪০)
আসিফ মিয়া (১৯)
সাকিব মিয়া (১৬)
মনিরা আক্তার (১৭)
ইভা (৬)
শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার বর্ণনা
আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা আরফান মিয়া বলেন, ভোরের দিকে বাসার ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো এক সময় আগুনের সংস্পর্শে আসতেই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিছানার ওপর ও রান্নাঘরের আশপাশে থাকা সদস্যরা সবচেয়ে বেশি দগ্ধ হন।
তিনি আরও জানান, দগ্ধ পরিবারটির বাড়ি শেরপুর জেলার নলিতাবাড়ী থানার তালুকপাড়া গ্রামে। জীবিকার তাগিদে তারা ঢাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
চিকিৎসকদের বক্তব্য
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, “আগারগাঁও এলাকা থেকে নারী ও শিশুসহ ছয়জন দগ্ধ রোগী আমাদের এখানে আনা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ড্রেসিং করা হচ্ছে। দগ্ধের শতাংশ এখনো নির্ণয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হবে।”
চিকিৎসকরা জানান, দগ্ধ রোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এ ঘটনায় আবারও রাজধানীতে আবাসিক এলাকায় গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত গ্যাস লাইনের পরীক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে গ্যাস লাইনের ত্রুটি শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।