বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সিলেট চ্যানেল ডেস্ক 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর কয়েক দিন বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কমলগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার অপর এক আসামি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজনগর উপজেলার খারপাড়া গ্রামের রাজু আহমেদ (২২) এবং বাহাদুরগঞ্জ গ্রামের জুবেল মিয়া (৩০)। মামলার অপর আসামি কবির (৩০) পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মুঠোফোনে পরিচয়, পরে সম্পর্ক

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাহেদ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ওই শিক্ষার্থীকে কৌশলে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। পরে মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে রাজনগর উপজেলার বাহাদুরগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে একটি বাড়িতে তাকে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

কয়েক দিন বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখার অভিযোগ

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে তার ওপর আরও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আটকে রেখে নির্যাতনের ফলে একপর্যায়ে শিক্ষার্থীটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশে তাকে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

থানায় মামলা, অভিযান শুরু

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমর উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আমির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

পুলিশ জানায়, প্রায় ২০ ঘণ্টার অভিযানের পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কলিমাবাদ ও গিয়াসনগর এবং রাজনগর উপজেলার গাঙপার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং জড়িতদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক