
প্রকাশিত : ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনগর প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় স্ত্রী ও সন্তানদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে শওকত মিয়া (৩৬) নামে এক যুবক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তাকে মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং গোপনাঙ্গে আঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শওকতের ভাই মজিদ মিয়া কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের সিংহনাথ এলাকার এক নারীর সঙ্গে শওকত মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় দুই বছর ধরে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে এবং তাদের নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে শওকত শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে তাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে কয়েকজন মিলে তার হাত-পা চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং গোপনাঙ্গে আঘাত করেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
হামলায় গুরুতর আহত শওকতকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে গত ৪ সেপ্টেম্বর তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
শওকতের ভাই ও মামলার বাদী মজিদ মিয়া বলেন, তার ভাই স্ত্রী ও সন্তানদের দেখতে এবং তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন। সেখানে তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
এ ঘটনায় ফুলু বেগম (৪৮), সায়রা বেগম (৩২), জামাল মিয়া (৩০), কামরুল ইসলাম (২৮), বিলাল মিয়া (২৫) ও জায়েদা বেগম (২৫)-কে অভিযুক্ত করে কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে তাদের ঠিকানা কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের সিংহনাথ এলাকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জুবেল আহমদ রাসেল বলেন, আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে তিনি শওকতের পরিবারের পাশে থাকবেন। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে এবং ন্যায়সংগতভাবে দেখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, তারা আইনের প্রতি আস্থাশীল।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মন্না বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক