
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক ৩১,৮,২০২৬
মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে আত্মরক্ষার্থে চলন্ত টমটম অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন সাদিয়া আক্তার ঝুমা (১৮) নামের এক কলেজছাত্রী। এ ঘটনায় তার সামনের দুটি দাঁত ভেঙে গেছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটের দিকে সদর উপজেলার গোমরা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাদিয়া আক্তার ঝুমা শহরের উত্তর জগন্নাথপুর এলাকার গোমরা সুলেমান ভিলার ভাড়াটিয়া জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি টমটম অটোরিকশায় ওঠেন ঝুমা। ওই অটোরিকশায় আগে থেকেই একজন অজ্ঞাতনামা যাত্রী বসা ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ঝুমা অটোরিকশায় ওঠার পর ওই ব্যক্তি বারবার তার গা ঘেঁষে বসার চেষ্টা করেন এবং তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন।
ঝুমা ওই ব্যক্তিকে কয়েকবার নিষেধ করলেও তিনি তা অমান্য করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। একপর্যায়ে গোমরা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই কলেজছাত্রী।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেকে নিরাপদ রাখতে এবং অপহরণের আশঙ্কায় ভয়ে চলন্ত টমটম থেকে লাফ দেন ঝুমা। এতে তিনি পাকা সড়কে পড়ে মুখে গুরুতর আঘাত পান। এ সময় তার সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়।
পরে তার মা ও স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন সন্দেহভাজন টমটম অটোরিকশা ও চালককে আটক করে পুলিশ লাইনের সামনে নিয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
তবে ওই কলেজছাত্রীকে কে বা কারা উত্ত্যক্ত করেছে এবং অপহরণের চেষ্টা হয়েছিল কি না—এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা!