মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩ ডেগ সিলগালা, বসল জেলা প্রশাসনের দানবাক্স;

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত|১৮,৬,২০২৬ সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক 

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর পবিত্র মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দান সংগ্রহে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহ্যবাহী ডেগ (দানপাত্র) সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল চারটার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়। এ সময় মাজার এলাকায় একটি বড় প্রধান দানবাক্সের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকটি ছোট দানবাক্স স্থাপন করা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাজারের দান সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এখন থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দেওয়া সব ধরনের নগদ দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা এসব দানবাক্সের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা বলেন, মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন দানবাক্সগুলো প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

এর আগে গত ১২ জুন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। ওই সময় তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার সিলেটের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মাজারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই মাজারের বিপুল পরিমাণ দানের অর্থের হিসাব-নিকাশ এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা প্রতিদিন নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রীসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করে থাকেন। তবে এসব দানের অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এর সুনির্দিষ্ট হিসাব কোথায় সংরক্ষিত হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্বচ্ছতার দাবি ওঠে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। সিলেট সিটি করপোরেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট এবং মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে। এ সময় দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ এবং নিয়মিত অডিট ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, মাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় আধুনিক ও নান্দনিক মসজিদ নির্মাণ, নারীদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান, লাইব্রেরি স্থাপন এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া স্বল্প সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা জোরদার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং টয়লেট সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই দানের অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে মাজার সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও ভক্তদের একাংশ শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ডেগ ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে দীর্ঘদিনের প্রচলিত রেওয়াজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার শুধু ধর্মীয় কেন্দ্রই নয়, বরং সিলেটের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজার হাজার ভক্ত, পর্যটক ও দর্শনার্থী এই দুই মাজারে আসেন এবং বিভিন্ন ধরনের দান ও মানত প্রদান করে থাকেন।