বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপে উদ্বেগ: ৬৯ শিশুর মৃত্যু,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত | সিলেট বিভাগ, ১৫,৬,২০২৬

সিলেট বিভাগে হাম ও নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ক্রমেই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই দুই রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৯ শিশু এবং একজন নার্সের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৩২২ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে—

  • সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে
  • সিলেট জেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত
  • হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী পাওয়া গেছে

এছাড়া কয়েকটি ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, চলতি সময়ে হাম ও নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৬৯ জন শিশু এবং একজন নার্স রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮০ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৯৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী—

  • সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্বাধিক রোগী ভর্তি
  • শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী
  • সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে বহু রোগী চিকিৎসাধীন
  • মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ও হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালেও রোগী ভর্তি রয়েছেন
  • কিছু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীর চাপ রয়েছে

গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও কয়েকজনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক লক্ষণ নিয়ে ৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, হাম ও নিউমোনিয়া শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে জটিলতা বাড়তে পারে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকা সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। তারা মনে করেন, যেসব শিশু টিকা নেয়নি বা অসম্পূর্ণ টিকা পেয়েছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।

নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা, পর্যাপ্ত পুষ্টি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতাল ব্যবস্থার চাপ

রোগীর সংখ্যা বাড়ায় সিলেট বিভাগের হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসক ও নার্সরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন, তবে রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পুরো পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।

বর্তমানে সিলেট বিভাগের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও দ্রুত ব্যবস্থা ও সচেতনতা বাড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।