
প্রকাশিত: ১৬, মে ২০২৬
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
মৌলভীবাজারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রিপন বকসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটির এফআইআর নম্বর ৩৪ এবং এটি ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর দায়ের করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট জিআর মামলা নম্বর ৩৪/৩২৪।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় রিপন বকসকে ২১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া রিপন বকস মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১০ নম্বর নজিরাবাদ ইউনিয়নের কমলাকলস গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. ফিরুজ বকসের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, রিপন বকস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি হাইল হাওর এলাকায় মরহুম লুৎফুর রহমানের পরিবারের মালিকানাধীন জমিতে হামলা ও জোরপূর্বক দখলচেষ্টার ঘটনাতেও তার নাম উঠে আসে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে রায় ও ডিক্রির মাধ্যমে ওই জমির বৈধ মালিকানা মরহুম লুৎফুর রহমানের পরিবারের পক্ষে নিশ্চিত করেন।
এছাড়া মৌলভীবাজার সদর আদালত থেকেও উক্ত ভূমি নিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণ দখল ও স্বত্ব সংরক্ষণের লক্ষ্যে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ ও ডিক্রি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পরও প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পৃথক অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, রিপন বকস ২০২২ সালে দায়ের হওয়া একটি আলোচিত হত্যা মামলারও প্রধান আসামি। মামলাটির জিআর নম্বর ২৯/২২ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা ও মামলার তদন্তের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রিপন বকসের গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগে আলোচিত এই রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।