
প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১২ PM
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি সিলেটি চ্যানেল।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির (২২) মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মুন্নির মা মোছা. রেনু বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলাটি করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মুন্নি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
মুন্নি উপজেলার মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের স্ত্রী। প্রায় চার বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। ওই টাকা দিয়ে লাভলু সৌদি আরবে গাড়ি কিনবেন বলে মুন্নির ওপর চাপ দেওয়া হতো বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় মুন্নিকে বিভিন্ন সময় গালিগালাজের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মুন্নির শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে দেওয়ার জন্যও তাঁকে চাপ দিতেন। একপর্যায়ে তাঁর বাবা মকবুল আলী জামিনদার হয়ে একটি বেসরকারি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মুন্নির নামে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নেন। সেই টাকা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ঋণের কিস্তি পরিশোধে সমস্যা দেখা দিলে মুন্নির ওপর আবারও চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট মুন্নিকে তাঁর বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে বলা হয়। টাকা দিতে না পারায় ওইদিন তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় নির্যাতনের কিছু অডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছিলেন মুন্নি বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বজনরা। তাঁর মায়ের অভিযোগ, স্বামীও ফোনে তাঁকে হুমকি ও মানসিকভাবে চাপ দিতেন।
পরে ওইদিন দুপুরের দিকে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি মুন্নির বাবাকে ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।
মুন্নির বাবা মকবুল আলী এর আগে বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মা লিখিত অভিযোগ করেন এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা/আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করা হয়।
মুন্নির মা রেনু বেগমের অভিযোগ, মেয়ের মরদেহ গোসল করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তাঁরা। নির্যাতনের অডিও ও ভিডিও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণেই মুন্নি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
এর আগে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মুন্নির মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক