
প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-২৩ | সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক |
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— এই টাকা আসলে কার কাছে থাকবে এবং আগে এসব অর্থ কোথায় যেতো? মাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে অর্থ গণনার পর এসব বিষয় নিয়ে সিলেটজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

Oplus_131072
সোমবার (২২ জুন) প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করা হয়। এতে মাত্র চার দিনে জমা পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা।
গণনা শেষে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, এই অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। তবে পরবর্তীতে এর ব্যবহার ও ব্যয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। (banglatribune.com)
তবে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন। মাজার সংশ্লিষ্ট খাদেমদের একাংশ জানিয়েছেন, নতুন ব্যাংক হিসাব খোলা হলেও তাদের কাউকে এতে সম্পৃক্ত করা হয়নি এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানেন না।
মাজারের খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না জানান, “মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছি একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে, কিন্তু আমাদের কাউকে এতে যুক্ত করা হয়নি। এমনকি দানবাক্স গণনার বিষয়েও আমাদের জানানো হয়নি।”
অন্যদিকে, মাজারভক্ত সংগঠন আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, অর্থ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সম্পৃক্ত না করায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের অর্থ খাদেমদের তত্ত্বাবধানে সংগ্রহ ও ব্যয় করা হতো। মাজারের দৈনন্দিন খরচ, কর্মচারীদের বেতন, লঙ্গরখানা পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা হতো। অতিরিক্ত অর্থ ‘হাদিয়া’ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো বলে জানা যায়।
তবে এই অর্থ ব্যবস্থাপনার কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় হিসাব বা প্রকাশ্য অডিট কাঠামো ছিল না বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
মাজারে প্রতিদিন কত টাকা দান আসে তার নির্দিষ্ট কোনো সরকারি হিসাব নেই। তবে বিভিন্ন সময়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাধারণ দিনে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত দান সংগ্রহ হয়। বিশেষ দিন, বৃহস্পতিবার, ওরস বা বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই পরিমাণ আরও অনেক বেড়ে যায়।
সাম্প্রতিক প্রকাশ্য গণনায় দেখা গেছে, মাত্র চার দিনেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে মাজারের মোট দানের পরিমাণ কত হতে পারে তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মাজারের দানবাক্সের টাকা এখন কোথায় রাখা হবে, কারা তা পরিচালনা করবে এবং আগের অর্থ ব্যবস্থাপনার কাঠামো কী ছিল— এসব প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের আলোচনায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় ও জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলে এ ধরনের বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে শাহজালাল মাজারের দান ব্যবস্থাপনা এখন শুধু ধর্মীয় নয়, প্রশাসনিক ও সামাজিক আলোচনারও কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।