মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮

, ডেগ সিলগালা: শাহজালাল মাজারে উত্তেজনা,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার। সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক।

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর পবিত্র মাজারে দান ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসনের নতুন উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, মতভেদ এবং ভক্তদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ।

মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বহু বছরের পুরোনো এবং ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে মাজারের ভক্ত, অনুসারী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন বিকেল চারটার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজার এলাকায় নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত ভালোভাবে গ্রহণ করেননি মাজারের ভক্তদের একটি অংশ। ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করার পর রাতে একদল ভক্ত ও অনুসারী দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা ‘লালে লাল, বাবা শাহজালাল’ স্লোগান দিতে থাকেন এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অনুসারী জানান, প্রায় সাতশ বছর ধরে যে প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, নতুন এই উদ্যোগ সেই ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাদের মতে, এটি মাজারের দীর্ঘদিনের পরম্পরায় অযাচিত হস্তক্ষেপ।

মাজারের খাদিম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, দানের অর্থ শুধু খাদেমদের জন্য নয়, বরং মাজার, মসজিদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রমের উন্নয়নেও ব্যয় করা হয়। হিসাব-নিকাশ চাওয়া যেতে পারে, তবে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সঠিক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কারও অধিকার খর্ব করা নয়, বরং দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাজারে দানের অর্থ ভাগ-বাঁটোয়ারার একটি অনিয়মতান্ত্রিক প্রথা চালু ছিল। যেহেতু হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর কোনো উত্তরাধিকার নেই, তাই এখানে দান হিসেবে আসা অর্থ জনগণের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই প্রশাসন এই উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দানের কোনো অর্থ সরকার গ্রহণ করবে না। বরং সব অর্থ মাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া মাজারকে কেন্দ্র করে একটি মহাপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে দান ব্যবস্থাপনায় এই পরিবর্তনকে ঘিরে সিলেটসহ দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। একদিকে প্রশাসন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কথা বলছে, অন্যদিকে ভক্ত ও অনুসারীদের একটি অংশ শত শত বছরের ঐতিহ্য রক্ষার দাবিতে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এ ছিল সিলেটি চ্যানেল ডেস্কের প্রতিবেদন। সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।