বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

সিলেট আমির হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী আপিলে খালাস

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬ | সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

এক দশকেরও বেশি সময় আগে সিলেট নগরীতে সংঘটিত আলোচিত তাবলিগ জামাতের স্থানীয় আমির ইব্রাহিম আবু খলিল হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া তাঁর স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে খালাস দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের এ রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে।

বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ ফাতিহা মাশকুরার করা আপিল মঞ্জুর করে এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে ফাতিহা মাশকুরাকে নির্দোষ হিসেবে খালাস দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।

ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছিল

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৮ মে সিলেট নগরের সওদাগরটুলায় নিজ বাসার শোবার ঘর থেকে তাবলিগ জামাতের ধোপাদিঘিরপাড় আঞ্চলিক শাখার মুরব্বি (আমির) ইব্রাহিম আবু খলিলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি সে সময় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ঘটনার সময় বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরা। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরদিন, ১৯ মে, এ ঘটনায় সিলেটের কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। একই দিনে ফাতিহা মাশকুরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, যেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড

মামলার বিচার শেষে ২০১৬ সালের ৬ জুন সিলেটের বিচারিক আদালত ফাতিহা মাশকুরাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়, যা ‘ডেথ রেফারেন্স’ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে ফাতিহার করা আপিল এবং ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

এরপর ২০২৪ সালে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ফাতিহা মাশকুরা। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাঁর আপিল মঞ্জুর করেন এবং আগের সব রায় বাতিল করে তাঁকে খালাস দেন।

আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি

ফাতিহা মাশকুরার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুদ্দিন খালেদ।

রায় ঘোষণার পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় ফাতিহা মাশকুরার বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়া অন্য কোনো প্রত্যক্ষ বা শক্তিশালী সাক্ষ্যপ্রমাণ ছিল না। তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, স্বীকারোক্তি গ্রহণের আগে চিন্তাভাবনার জন্য যে সময় দেওয়া হয়েছিল, সেই সময় একজন নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতির বিষয়টি নথিতে উঠে এসেছে। ফলে আসামি পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় দেওয়া ওই জবানবন্দির স্বেচ্ছাস্ফূর্ততা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই আপিল বিভাগ আগের রায় বাতিল করে ফাতিহা মাশকুরাকে খালাস দিয়েছেন।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন ফাতিহা

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফাতিহা মাশকুরা বর্তমানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর তাঁর মুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

আলোচিত মামলায় নতুন অধ্যায়

সিলেটের আলোচিত এই হত্যা মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে হাইকোর্ট পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগে এসে মামলার মোড় ঘুরে যায়। সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে প্রায় ১১ বছর ধরে চলা এই মামলার বিচারিক ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হলো।

উল্লেখ্য, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে।