
নারীসহ গ্রেপ্তার ২
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত : শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
মা ও মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে সিলেটে এক আরবি শিক্ষককে হত্যার অভিযোগে এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আব্দুল মতিন (৪৫) ও খালেদা বেগম (৩২)।
নিহত ব্যক্তির নাম শোয়েবুর রহমান শিহাব (৩০)।
সিলেট মহানগর পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে শাহপরান থানাধীন সোনারপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন শনিবার তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।

ছবি সংগৃহীত
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে জালালাবাদ থানাধীন হাটখোলা ইউনিয়নের উমাইরগাঁও এলাকায় বাদেশ্বর নদীর উত্তর পাড়ে কুড়াইল হাওরের ঝোপঝাড় থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সয়াইবুর রহমান জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, নিহত শিহাব ২০২৩ সাল থেকে খালেদা বেগমের বাসায় তার সন্তানদের আরবি গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। খালেদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় শিহাব বাসার সার্বিক দেখাশোনাও করতেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পুলিশের দাবি।
স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ আরও জানায়, শিহাব খালেদা বেগমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার স্বামীর সঙ্গে শিবগঞ্জ উপশহর এলাকায় একটি প্লট কেনার পরিকল্পনায় প্রায় ২০ লাখ টাকা বায়না দেওয়া হয়।
এছাড়া পর্তুগাল ও লন্ডনে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে খালেদা বেগমের স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির টাকা ও অন্যান্য মাধ্যমে মোট প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন শিহাব।
পুলিশের তথ্যমতে, বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিহাব খালেদা বেগম ও তার পরিবারের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। একই সঙ্গে খালেদা বেগমের মেয়ের সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠে।
এ নিয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে পরিকল্পনা অনুযায়ী শিহাবকে বাদেশ্বর নদীর পাশে কুড়াইল হাওরের বেতঝোপে নিয়ে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহ বিবস্ত্র করে মুখসহ শরীরের অর্ধাংশ বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বলেও জানায় পুলিশ।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।