বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

শেষ বিছানায়ও পাশাপাশি চিরঘুমে মা-ছেলে

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত

 

সিলেটি চ্যানেল ডেস্কপ্র কাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

বাগেরহাটে মানসিক হতাশা থেকে নিজের ৯ মাস বয়সী শিশুকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণী মা। মর্মান্তিক এই ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত নারী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) এবং তার শিশুসন্তান নাজিমকে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে।

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুবর্ণার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘর থেকে মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানের মরদেহ। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, মানসিক অবসাদ থেকেই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন ওই নারী।

নিহতের বাবা শেখ রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে স্বর্ণালী তার শিশুসন্তানকে নিয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। রাত ১১টা ২০ মিনিটে জানাজা শেষে রাত ১২টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

নিহত নারীর স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। তবে মানবিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মাত্র পাঁচ মিনিট দূর থেকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স যশোর কারাগারের ফটকে পৌঁছালে সীমিত সময়ের জন্য এই সুযোগ দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা এবং পারিবারিক সংকট এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।