মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে টমটম, চালক নিখোঁজ শ্রীমঙ্গলে ২১ বোতল ভারতীয় মদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের চাপায় চালকের মৃত্যু সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’ সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর অভিযোগ, জড়িতদের নিয়ে প্রশ্ন সিলেটে চিকিৎসক প্রান্তের মৃত্যু: নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই মৃত্যু, উঠছে নানা প্রশ্ন কুলাউড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে হামলার শিকার শওকত, থানায় অভিযোগ, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা’, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম. সাইফুর রহমান: স্মৃতিতে অমলিন, কর্মে চিরঞ্জীব, সুনামগঞ্জে লাশ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে, নারী ও শিশুসহ আহত ৮

গোয়াইনঘাটে হিন্দু বাড়িতে আগুন ‘শর্ট সার্কিট থেকে’,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রয়াত স্কুলশিক্ষক বীরেন্দ্র দেবের বাড়িতে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ড কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয় বলে জানিয়েছে সিলেট জেলা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

শুক্রবার রাতে সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. সম্রাট তালুকদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে গোয়াইনঘাট উপজেলার ৭ নম্বর নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের বহর গ্রাম পূর্ব পাড়ায় বীরেন্দ্র দেবের বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, আগুনে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কিছু ব্যক্তি ও ফেসবুক পেজ থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি প্রচার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ও অনলাইনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “গোয়াইনঘাটে একটি পরিবারের বসতবাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা। তবে দুঃখজনকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার এবং গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
এদিকে বীরেন্দ্র দেবের বড় ছেলে বিকাশ চন্দ্র দেব, যিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে বলেন—বাড়ির পাশে থাকা খড়ের ঘর (গো-খাদ্যের ঘর) থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খড়ের ঘরটি বসতঘরের সঙ্গে লাগানো থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি জানান, দুপুরে তাঁর স্ত্রী টিউবওয়েলে পানি আনতে গিয়ে প্রথমে খড়ের ঘরে আগুন দেখতে পান। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

বিকাশ দেব বলেন, “আমাদের পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগও নেই। এটি একটি দুর্ঘটনা। এলাকার মানুষজনের সহযোগিতায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি।

খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নব কুমার সিংহ জানান, প্রাথমিকভাবে খড়ের ঘরে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিষয়টি তদন্তাধীন।
পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।