বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

হাদি হত্যা: ভারতে মেঘালয়ে আটক দুই সহযোগী, মূল আসামি এখনও পলাতক,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

সিলেট চ্যানেল ডেস্ক ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান ভারতের মেঘাল্যে পালিয়ে গেলেও তার দুই সহযোগীকে সেখানকার পুলিশ আটক করেছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

ডিএমপির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর মূল আসামি ফয়সাল করিম অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয়ে অবস্থান করছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার দুই সহযোগীকে মেঘালয় পুলিশ আটক করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন,

হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করতে পারব।”
তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, মূল সন্দেহভাজনকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় হত্যার মোটিভ সম্পর্কিত বিষয়গুলো স্পষ্ট করা যাচ্ছে না।

যেভাবে সংঘটিত হয় হত্যাকাণ্ড

গত ১২ ডিসেম্বর রাতে রিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে সীমান্ত পারাপারের বিষয়
পুলিশ সূত্র জানায়, হত্যার পরপরই আসামিদের একটি অংশ দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

তদন্তে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করেছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস

ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চার্জশিট দাখিলের পর আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।