বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
তামাবিল দিয়ে ভারতে পাঠানো হলো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিহত নারীর মরদেহ তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল

সম্পত্তি বিরোধে দাফনে বাধা: ৩৬ ঘণ্টা উঠানে পড়ে রইল বাবার মরদেহ,

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ 

সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে সন্তানদের দ্বন্দ্বে হাটহাজারীতে বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার এক হৃদয়বিদারক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। টানা ৩৬ ঘণ্টা ধরে হিমাগার গাড়িতে পড়ে থাকে বৃদ্ধের মরদেহ। ঘটনাটি চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা এলাকায় ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্বমেখল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেকান্দর (৭০) শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দুই সংসারে মোট আট সন্তানের জনক। মৃত্যুর আগে তিনি তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার সন্তানদের নামে লিখে দিয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রথম পক্ষের পাঁচ সন্তান ও দ্বিতীয় পক্ষের তিন সন্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল।
শনিবার সকালে দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানরা মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিলে প্রথম পক্ষের সন্তানরা এতে বাধা দেন। তাদের দাবি, প্রাপ্য সম্পত্তির হিস্যা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত দাফন করতে দেওয়া হবে না। প্রথম পক্ষের মেয়ে আয়েশা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
আমাদের বাবা আমাদের বঞ্চিত করে সব সম্পত্তি দ্বিতীয় পক্ষকে দিয়ে গেছেন। ন্যায্য অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত দাফন হতে পারে না।”
অন্যদিকে দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে ইমতিয়াজ বলেন,
আমরা চেয়েছিলাম আগে বাবার দাফন হোক, পরে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু তারা কোনোভাবেই রাজি হয়নি। ফলে মরদেহটি ৩৬ ঘণ্টা ধরে দাফন ছাড়াই হিমাগার গাড়িতে পড়ে থাকে।”
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মো. সেকান্দরের মরদেহ দাফনহীন অবস্থায় বাড়ির উঠানে হিমাগার গাড়িতেই ছিল। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে।
হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল জানান, প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ মরদেহ দাফনে সম্মত হয়েছে। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর সম্পত্তি বণ্টন বিষয়ে পারিবারিক সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।