মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

শহীদ হাদির জানাজায় জনসমুদ্র: সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মানুষের ঢল

ঢাকা প্রতিনিধি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রকাশকাল: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন জনসমাগম। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ হাদির জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই জনতার ঢল নামে। ভোর থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দীর্ঘ সময় সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষের জন্য দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়।
জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি প্রবেশপথে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ। চীন থেকে আনা আটটি আর্চওয়ে গেট বসানো হয় এবং সেগুলোর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ছাত্র-জনতা দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করেন। পুরো এলাকায় বাড়তি পুলিশ, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়।
রাজধানী ছাড়াও সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ জানাজায় অংশ নিতে ছুটে আসেন। অনেকেই জানান, শহীদ হাদির জানাজা হবে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ গণজমায়েত। সাধারণ মানুষের চোখেমুখে ছিল শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ভাষা।
এদিকে, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জানাজাকে ঘিরে পুরো সংসদ ভবন এলাকা ঘিরে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা বলয়।
এর আগে শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে শহীদ হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। গোসল সম্পন্ন করার পর জানাজার উদ্দেশ্যে মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজার নামাজ পড়াবেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজা শেষে শহীদ হাদির দাফন সম্পন্ন হবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশেই।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে অংশ নিতে গেলে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে শহীদ হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
শহীদ হাদির মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে।