মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

মধ্যরাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার,

Reporter Name

সিলেটি চ্যানেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে হঠাৎ করেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে—সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে। ঠিক এমন পরিস্থিতির মধ্যেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্যদের অবস্থান চোখে পড়ে।

হঠাৎ নিরাপত্তা বাড়ানো ঘিরে জল্পনা

সোমবার মধ্যরাতে হাসপাতালটির সামনে পুলিশের বাড়তি টহল, ব্যারিকেড স্থাপন এবং বিশেষ নিরাপত্তা টিমের মোতায়েন—সব মিলিয়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
নিরাপত্তা জোরদারের কারণ সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা না হলেও, হঠাৎ বাড়তি সতর্কতা বিএনপির ভেতরেও তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভিভিআইপি নিরাপত্তা—গেজেট প্রকাশ?

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকার খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি নিরাপত্তা প্রদানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে এবং এ বিষয়ে একটি গেজেট প্রকাশও হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।
তবে সরকারি পর্যায় থেকে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

রাতে মির্জা ফখরুলের হাসপাতালে উপস্থিতি

সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান এবং খালেদা জিয়াকে দেখে বের হন।
সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তারা সরাসরি সিসিইউতে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে—খালেদা জিয়া মহাসচিবের সঙ্গে হালকা কথাও বলেছেন, যা দলীয় নেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান—
প্রেসক্রাইব করা ওষুধে খালেদা জিয়ার শরীর সাড়া দিচ্ছে, যা চিকিৎসার জন্য ইতিবাচক দিক।

দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছেন

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু জটিল রোগে ভুগছেন, যার মধ্যে রয়েছে—

হৃদরোগ

ডায়াবেটিস

আর্থ্রাইটিস

লিভার সিরোসিস

কিডনির জটিলতা

গত ২৩ নভেম্বর, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন রাতেই তার অবস্থার অবনতি দেখা দিলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
পরে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুই মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
তিনি দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দী ছিলেন।
২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়, যা পরবর্তী সময়ে প্রতি ছয় মাস পরপর বাড়ানো হয়। তবে এই সময় তাকে বিদেশে যেতে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

পরে ৮ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি মুক্তি পান।
এ বছরের ৮ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং ৬ মে দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া।