রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শাহজালালের মাজারে পঞ্চম দফার গণনায় মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা, পাঁচ দফায় মোট ৩ কোটি ১৩ লাখ সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার কামাল আহমদকে, শ্রীমঙ্গলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা, শিশুর মৃত্যু, আহত ৩ সুনামগঞ্জে বৃদ্ধ মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ছেলে নুরু আলম আটক শ্রীমঙ্গলে ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ৩, অভিযানে কর্মকর্তাকে কামড় সিলেটে হাসপাতালের ভেতরে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে সুমেল খাঁর যাবজ্জীবন মৌলভীবাজারে তরুণীসহ অনয় দেবনাথকে আটকের দাবি, মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও সিলেটের গোয়াইনঘাটে বদরুল আলম নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা শ্রীমঙ্গলে পুলিশের অভিযান, ২৯ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

 

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ইজিবাইকে ক্রিকেট খেলার বল লাগাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ সময় ২০ থেকে ৩০টি বাড়িঘর ও চারটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া মধ্য তাহিরপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তাহিরপুর উপজেলা সদরের মধ্য তাহিরপুর গ্রামে তাহিরপুর-জামালগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের সড়কে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। পরে আশপাশের গ্রামের বাসিন্দা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

যেভাবে বিরোধের সূত্রপাত

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বীরজয় লক্ষ্মী ধুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গ্রামের ছেলেরা ক্রিকেট খেলছিল। খেলার সময় পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় মধ্য তাহিরপুর গ্রামের জালাল মিয়ার ইজিবাইকের ওপর একটি ক্রিকেট বল এসে পড়ে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ মিয়ার সঙ্গে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এর জেরে ওই দিন বিকেলে তাহিরপুর বাজারে ধুতমা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে মধ্য তাহিরপুরের কয়েকজন মারধর করেন। পরে মঙ্গলবার হাফিজ মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বীরনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন।

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মসজিদের মাইকে ঘোষণা

মঙ্গলবার রাতে বীরনগর গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বুধবার সকালে বীরনগর, জয়নগর, লক্ষ্মীপুর ও ধুতমা গ্রামের লোকজনকে যার যা অস্ত্র আছে, তা নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়।

মাইকিংয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে রাতে উত্তেজনা কমেনি এবং বিরোধের কোনো সুরাহা হয়নি।

বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

বুধবার দুপুরে ওই চার গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামে হামলা চালায় এবং বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

একপর্যায়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের আলকাছ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ সময় মধ্য তাহিরপুরের লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুলে পাল্টা আক্রমণ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন বলে স্থানীয়রা জানান।

মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা তানিম আহমদ লিংকন ও রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার রাতে বীরনগর গ্রামের মসজিদের মাইকে বুধবার সকালে তাদের গ্রামে হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরে বুধবার দুপুরে চার গ্রামের হাজারো মানুষ নৌকা নিয়ে তাদের গ্রামে হামলা চালায় বলে তারা দাবি করেন।

তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট করে, নারীদের মারধর করে এবং একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে বীরনগর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, শিশুদের ক্রিকেট খেলার সময় ইজিবাইকে বল পড়াকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে মারধর ও পাল্টা মারধরের ঘটনা ঘটে। বুধবার দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলেও এলাকার লোকজন ও প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মারামারি থেকে বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন বলে জানান। তার ভাষ্য, উভয়পক্ষের অতিউৎসাহী কিছু লোকের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এলাকার মানুষ, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে।

পুলিশের বক্তব্য

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ জানান, কয়েক দিন আগের একটি তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।

তিনি বলেন, মাইকে ঘোষণার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং দুই পক্ষকে সংঘর্ষে না জড়ানোর জন্য বোঝানোর চেষ্টা করে। বুধবার দুই পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়ার পর একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের পর পুনরায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।