
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩টা ৫৩ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের বালাগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় সুমেল খাঁ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সিলেট জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাক আহমদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুমেল খাঁ বালাগঞ্জ উপজেলার গোপক গ্রামের তইমুজ খাঁর ছেলে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৫ নভেম্বর রাতে বালাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১৩ নম্বর মহিলা ওয়ার্ডে ১০ বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণ করেন সুমেল খাঁ।
হাসপাতালের মতো চিকিৎসাসেবার স্থানে এমন অপরাধের অভিযোগে ওই সময় ঘটনাটি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার বিচার চেয়ে মামলা করা হয়।
ঘটনার পরদিন, ২০০৭ সালের ৬ নভেম্বর, শিশুটির চাচা বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যায়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে সুমেল খাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সিলেট জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মোস্তাক আহমদ জানান, মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সুমেল খাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাটির রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় সম্পন্ন হলো।
শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী বিচার সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেটের বালাগঞ্জের এ মামলায় আদালতের দেওয়া রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশের কথা জানানো হয়েছে।
সংবাদসূত্র: প্রদত্ত সংবাদতথ্য ও সরকারি কৌঁসুলির বক্তব্য।