বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তার অভিযোগ, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪ শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ধর্মীয় শিক্ষার কথা বলে স্কুলছাত্রকে মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে শিক্ষক কারাগারে মৌলভীবাজারে দোকানের ক্যাশ থেকে ২ লাখ টাকার বেশি চুরি শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের হিসাব: এবার সব রেকর্ড ছাড়াল জুড়ীতে সিএনজি চালক বলাই হত্যা: রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

সিলেটে শিশুদের বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক বললেন, ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

 

প্রকাশিত : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক

সিলেটে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে ফয়জুল হক নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ফয়জুল হক সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মাদ্রাসার হিফজ শাখার ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ ও শিশুদের পরিবারের অভিযোগের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুই শিশু সম্প্রতি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে আসে এবং এরপর আর মাদ্রাসায় যেতে আপত্তি জানায়। অভিভাবকরা তাদের মাদ্রাসায় পাঠানোর চেষ্টা করেও সফল হননি।

একপর্যায়ে শিশু দুটি তাদের অভিভাবকদের কাছে অভিযোগ করে, তাদের প্রতি রাতে হুজুরের ঘরে যেতে হতো। সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর করা হতো এবং ঘরে গেলে তাদের সঙ্গে ‘খারাপ কাজ’ করা হতো বলে তারা জানায়।

শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করার খবর পেয়ে ফয়জুল হক মাদ্রাসা ছেড়ে জৈন্তাপুরে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে বুধবার তাকে জৈন্তাপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, ফয়জুল হকের বাড়িও জৈন্তাপুর এলাকায়।

শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আহমদ জানান, দুই শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল হক অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ না করে অন্য একটি বিয়ে করেন না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘মহিলাদের আমার ভাল্লাগে না’ বলেছেন বলে জানান ওসি।

তবে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, ফয়জুল হককে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের শিকার দুই শিশুর মেডিকেল পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক