
সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটি চ্যানেল ০৭,৮,২০২৬
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বেঙ্গল ও ইউনিক পরিবহনের দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আহতদের মধ্যে ১৩ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন—সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় (প্রিয়ম) (২২), দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে জায়ফা (৪), কিশোরগঞ্জের চন্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী, কিশোরগঞ্জের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বগডহর এলাকার মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪)।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ও বেঙ্গল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর দুই বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনায় আহত ১৩ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা হলেন—ওয়াব (৪৫), মনসুর (৩৪), আতিকুল ইসলাম (৪৮), বাবুল (৪০), মফিজ মিয়া (৫৫), সাজিদ নুর (৪৫), নুরুন্নাহার (৪০), মুক্তার হোসেন (৬৫), জাহাঙ্গীর (২৮), আফজল (৩০), আফরোজা (৩৮), মন্টু (৩০) ও রাজু (৫৫)।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন অনুমোদন হলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে হাইওয়ে পুলিশ।