
সিলেটি চ্যানেল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে। বুধবার বিকেল থেকেই তাঁর শ্বশুরবাড়ি হিসেবে পরিচিত মিনিস্টার বাড়ি’তে চলছে ব্যাপক আয়োজন।
সারি সারি চুলায় বড় বড় ডেগে (পাতিল) রান্না হচ্ছে আখনি। একের পর এক নামানো হচ্ছে ডেগ, সাজিয়ে রাখা হচ্ছে উঠানে। রান্না শেষ হলে ঢাকনা খুলে খাবারের মান যাচাই করছেন বাবুর্চিরা।

ছবি সংগৃহীত
বিরাইমপুর গ্রামের এই বাড়িটি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি। তাঁর শ্বশুর ছিলেন নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। তিনি পরবর্তীতে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। এ কারণেই এলাকাবাসীর কাছে বাড়িটি ‘মিনিস্টার বাড়ি’ নামে পরিচিত।
রাতেই শ্বশুরবাড়িতে যাবেন তারেক রহমান
দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে সিলেটে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করবেন।
এরপর তিনি তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি বিরাইমপুর গ্রামে যাবেন। সেখানে তিনি জুবাইদা রহমানের পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবর জিয়ারত করবেন।
পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জুবাইদা রহমানের পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। মিলাদ শেষে তারেক রহমানের সফরসঙ্গী, দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর জন্য খাবার পরিবেশন করা হবে, যা ‘শিরনি’ হিসেবে বিতরণ করা হবে।
১২ হাজার মানুষের জন্য ৪০ ডেগ আখনি
রান্নার দায়িত্বে থাকা প্রধান বাবুর্চি মো. হাসু মিয়া জানান, প্রায় ১২ হাজার মানুষের জন্য ৪০ ডেগ আখনি রান্না করা হচ্ছে। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে ৮টি গরু ও ৩৪ বস্তা চাল। রান্নার কাজে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ৫০ জন বাবুর্চি। বুধবার সকাল থেকেই এই বিশাল রান্নার আয়োজন শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন,
এলাকার জামাই তারেক রহমান আসছেন—এই আনন্দেই সবাই উৎসাহ নিয়ে কাজ করছেন। আশা করি, রান্নার আখনি খেয়ে তিনি প্রশংসা করবেন।”
পরিবারের তদারকি ও নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি
জুবাইদা রহমানের চাচাতো ভাই নাসির আলী খান বাড়ির সার্বিক প্রস্তুতি ও অতিথি আপ্যায়নের তদারকি করছেন। তিনি বলেন,
দীর্ঘদিন পর আপা ও দুলাভাই আসছেন। তাঁদের বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
বিকেলে মিনিস্টার বাড়িতে দেখা যায় সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল মালিককে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন আয়োজন ঘুরে দেখেন।
আবদুল মালিক বলেন,
তারেক রহমান শুধু দলের চেয়ারম্যান নন, তিনি আমাদের ভগ্নিপতি। দীর্ঘদিন পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসছেন—এতে আমরা এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।”
তিনি আরও বলেন,
দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সিলেটে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় দলের বর্তমান চেয়ারম্যানও সিলেট থেকেই তাঁর প্রচারণা শুরু করছেন।”
তোরণ, বিলবোর্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে মিনিস্টার বাড়িতে পৌঁছানোর সড়কে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক তোরণ ও বিলবোর্ড। কোথাও লেখা রয়েছে—
দুলাভাইকে পুণ্যভূমিতে স্বাগতম”,
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগতম”।
সরেজমিনে দেখা যায়, জুবাইদা রহমানের বাড়িতে ঢোকার আগে সড়কে পাশাপাশি ছয়টি তোরণ স্থাপন করা হয়েছে। বাড়ির প্রবেশ ফটকে পরিবারের পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে আরও একটি তোরণ।
তিনটি বাড়ি ঘিরে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, প্রবেশপথে আলোকসজ্জার জন্য লাগানো হয়েছে বাতি। পুকুরপাড়ে শামিয়ানা টাঙিয়ে অতিথিদের বসার জন্য চেয়ার রাখা হয়েছে। বাড়ির পাশেই চলছে বিশাল রান্নার আয়োজন।
২১ বছর পর শ্বশুরবাড়িতে আগমন
স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের বিয়ে হয়।
২০০৪ সালে দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি প্রথমবার শ্বশুরবাড়িতে যান। দীর্ঘ ২১ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো তিনি আবার সেখানে যাচ্ছেন।